পেশায় ডাক্তার, নিজের মত করে লেখালেখি করি।

ভালোর সহজ সংজ্ঞা আছে হাতের কাছে
চুপ করে যাও, চুপ করে যাও রাত্রি হলে
রাত্রি হলে নীল বিছানায় শুচ্ছি যখন
একটা মেয়ে কালশিটে-দাগ শরীর খোলে
কারা কোথায় মারছে তাকে ভর দুপুরে
আমার বিলাস হন্ডাসিটি, কলেজ স্ট্রীটে
পাক খেয়ে যায়, উড়তে থাকে, সেই সময়ে
কালশিটে-দাগ ছড়িয়ে পড়ে অতর্কিতে
আমি তখন ময়দানে আর ভিক্টোরিয়ায়
তোমার প্রেমে উড়িয়েছিলাম সোনার তরী
মাস পহেলায় পকেট ভরা রক্ত নিয়ে
শপিং মলে সাজিয়ে রাখি নিজের শরীর
হাসতে হাসতে লুটিয়ে প’ ড়ে তোমার বুকে
তোমার হাতেই কিনছি আমি নিজের হৃদয়
কালশিটেরা ছড়িয়ে গেছে ভেতর ভেতর
মধ্যবিত্ত জীবন মানেই আজন্ম ক্ষয়-
আমিও বুঝি, সন্ধ্যাবেলায় টিভির স্ক্রিনে
আওয়াজ তোলো, আওয়াজ তোলো বুদ্ধিজীবী,
আমরা তোমায় সঙ্গে নিয়ে এ সংসারে
দিন বদলের স্বপ্নে বিভোর, দু’চোখ নিবিড়
রাত্রি ঘনায়, চুপ করে যাই, মাংস- রুটি
কালশিটে গায়’ নামছে আমার অন্ত্র জুড়ে
সেই মেয়েটা মধ্যরাতে হাওড়া ব্রিজের
মাথায় উঠে দাঁড়িয়ে আছে বিষাদ সুরে
ভালোর জটিল সংজ্ঞা আছে, কেউ জানে না
একটা মেয়ে গোপন খাতায় আগুন সাজায়
কলকাতা তার লাইন জুড়ে চলতে গিয়ে
মধ্যরাতের ব্যবস্থাতে ঠিক পুড়ে যায়
কেউ জানে না, ভোরের বেলায় চাদর খেলা
তোমার সাথে সূর্য ওঠে খুব সোহাগে
সেই মেয়েটা কালশিটে রং মেঘের সাথে
কলকাতাকে পুড়তে দেখে রক্ত দাগে
সেই মেয়েটা কালশিটে রং মেঘের দেশে
তোমায় আমায় পুড়তে দেখে রক্ত দাগে

2 thoughts on “অনীক চক্রবর্তীর কবিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *