এই সময়ে, কবি ও কবিতার উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নেমে আসার সময়ে, দেশ ও দেশবাসীর উপর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস নেমে আসার সময়ে দাঁড়িয়ে কিছু কবিতা, কিছু প্রতিবাদের স্বর। ষষ্ঠ কিস্তি – অখিল কাত্যালের কবিতা। ভাষান্তর – শুক্লা সিংহ।

সিয়াচেনের সৈনিকের প্রতি 

ফিরে এসো
বরফগুলো সব বিশ্বাসঘাতক
ফিরে এসো
তারা তোমায় একটি ছলচাতুরির যুদ্ধে শামিল হতে বাধ্য করছে
বরফ তোমার দেশ নয়
এই বরফ তোমার পরিচিত নয়, ফিরে এসো
আমি চাই না তুমি আমাদের জন্য এই যুদ্ধে লড়াই করো
আমি চাই তুমি বিশ্রাম করো, আমি তোমার আঙুল
ছুঁয়ে দেখতে চাই
তোমার ধমনীতে যে বরফ বইছে তা যেন গলে যায়, ঘুমিয়ে পড়ে,
এবং তোমার শ্বাস-প্রশ্বাস যেন আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে উঠে।

ফিরে এসো।

বাড়ি চলে যাও।

নিজের বাড়ি ফিরে যাও। ধারওয়াড়, মাদুরাই
ভেলোর, সাতারা, মাইসোর, যেখানে তোমার বাড়ি, সেখানে
চলে যাও
বরফের ঘরে থেকো না।
রাঁচির বাড়িতে চলে যাও, ওই যুদ্ধে
তোমার যাওয়ার কথা নয়, ওই যুদ্ধে
আমরা জোর করে তোমায় পাঠাতে পারিনা ,
আমরা বরফ নই, আমরা তোমার ঘাড়ে চেপে বসতে চাই না
আমরা তোমার দম আটকাতে চাই না
ওই লোকেরা, ওই বরফের পাহাড়, তারা কেউ তোমার অপেক্ষা করছে না।
ফিরে এসো
তুমি বরফের দেশের নও
বরফের ছলচাতুরী তুমি বুঝবে না।

বাড়ি চলে যাও
সূর্যের কাছে, জলের কাছে, বাড়ি চলে যাও
পাড়াগাঁয়, যেখানে রাত্রিবেলা বাজারে হৈচৈ
বাড়ির লোকেরা চেঁচামেচি করছে,
ঘামে সিক্ত পশ্চিম পর্বতমালার কাছে
ধুলোমাখা সড়কপথের কাছে
বিশ্রামের কাছে, বাড়ি চলে যাও।

এই সাদা রঙ যেন তোমায় আর কোনোদিন
দেখতে না হয়।
যেন কোনো রঙ তোমার হাতের চেটোয়
মৃত্যু আঁকতে না পারে ।

তাঁর জন্মসাল ১৯৪৮, তাই তাঁকে

মুখের উপর পাকিস্তানী বলে ডাকা যায় কারণ দেশ ভাগ হওয়ার আগে তিনি এখানে ছিলেন না; তিনি আমাদের কেউ নন। তবে সমস্যাটা হচ্ছে, আমি জানি না ঠিক কীভাবে কৈশোরের সেই বিকেলবেলার স্মৃতিগুলো মুছে ফেলা যায়, যখন তাঁর মত্তকণ্ঠে “আফরীন আফরীন” শুনে নুসরত যে ওপারের লোক, এসব না ভেবেই সেই গানের সুরে হারিয়ে যেতাম।

শাম্মি কাপুর যখন বরফে পা পিছলে আছাড় খেয়ে

‘ইয়াহু’ চিৎকার করেন, আমাদের জানানো হয় ‘জংলী’ নামক ছায়াছবির
শুটিং কাশ্মীরে হয়েছিল,
কিন্তু সত্যিটা হচ্ছে, জায়গাটা কাশ্মীর নয়। এটা সিমলার কাছে, নাম কুফরি।

‘ইয়ে জওয়ানি হ্যা দিওয়ানি’ ছবিতে রণবীর কাপুর যখন বরফের চূড়ায় উঠে অবাক হয়ে চারপাশ দেখতে থাকেন, আমাদের জানানো হয় এটা নাকি মানালি।

অথচ এটা কাশ্মীরের গুলমার্গ ।

এর অর্থ হচ্ছে, আট থেকে আশি – সবাই এভাবেই শিখেছে। আমরা সবাই এই ভুলটা করে আসছি, সেই কবে থেকে, কাশ্মীরকে কাশ্মীরীবিহীন ভাবার, কারণ আমাদের কাছে কাশ্মীর শুধুই একটি গান।

ডঃ অখিল কাত্যাল কবি তথা Queer Activist. বর্তমানে দিল্লির ডঃ বি আর আম্বেদকর ইউনিভার্সিটির স্কুল অফ কালচার এন্ড ক্রিয়েটিভ এক্সপ্রেশন্স-এ এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরের পদে নিযুক্ত রয়েছেন। তাঁর কবিতা, গদ্য এবং গবেষণা পত্র বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নাল ও ওয়েব-কাগজে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর “হাউ মেনি কান্ট্রিজ ডাজ দ্য ইন্ডাস ক্রস” (২০১৮) নামক কবিতা সংগ্রহ পাঠকমহলে বিশেষভাবে সমাদৃত। তিনি ২০২০ সালে প্রকাশিত The World That Belongs To Us: An Anthology of Queer Poetry from South Asia-র সহ সম্পাদক। 

এই কবিতাগুলি ৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯-এ স্ক্রোল-এ ‘সিক্স পোয়েমস ফ্রম অখিল কাত্যালস ‘হাউ মেনি কান্ট্রিজ ডাজ দ্যা ইন্দাস ক্রস’’ নামক প্রবন্ধে প্রকাশিত হয়েছিল।

শুক্লা সিংহ সম্প্রতি ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে পিএচডি লাভ করেছেন। লেখালেখি করেন ইংরেজি এবং বাংলায়। Muse India, Yendai, The Sunflower Collective, Cafe Dissensus, ত্রিস্টুপ – এ তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়েছে।

আরো পড়ুন: প্রতিবাদের স্বর । কিনফাম সিং নোঙকিনরিহ–এর কবিতা । ভাষান্তর – শুক্লা সিংহ

2 thoughts on “প্রতিবাদের স্বর । অখিল কাত্যালের কবিতা । ভাষান্তর – শুক্লা সিংহ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *